Thursday, September 29, 2016
Wednesday, September 28, 2016
পবিত্র প্রেমের উপকারিতা কি দেখুন
প্রেমে পড়লে দেখা দেয় হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, হাত কাঁপার মতো ঘটনা ঘটে। একে অন্যকে জানানোর প্রয়োজন পড়ে ‘ ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ আসলে সবাই কি এই কথাগুলো বলে নাকি অন্যভাবেও বলে থাকে।
শিস বাজিয়ে
মেক্সিকোর কিকাপু উপজাতির পুরুষেরা প্রেম করে শিস বাজিয়ে। যাকে পছন্দ তাকে শিস বাজিয়ে ডেকে নেয় প্রেমিক পুরুষ। মেয়েটি সাড়া দিলে শুরু হয় প্রেম। মুখে বলেনা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ না একথাটা তার নিজের ভাষাতেও বলে না। আশপাশে লোকজন থাকলে আকার-ইঙ্গিতে একে-অপরকে বলবে ‘ভালোবাসি’।
মেক্সিকোর কিকাপু উপজাতির পুরুষেরা প্রেম করে শিস বাজিয়ে। যাকে পছন্দ তাকে শিস বাজিয়ে ডেকে নেয় প্রেমিক পুরুষ। মেয়েটি সাড়া দিলে শুরু হয় প্রেম। মুখে বলেনা ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ না একথাটা তার নিজের ভাষাতেও বলে না। আশপাশে লোকজন থাকলে আকার-ইঙ্গিতে একে-অপরকে বলবে ‘ভালোবাসি’।
আপেল দিয়ে
অস্ট্রিয়ায় মেয়েদের মধ্যে প্রেম নিবেদনের অদ্ভুত এক রেওয়াজ আছে। গ্রাম এলাকায় ঐতিহ্যবাহী নাচের সময় মেয়েরা আপেল নিয়ে বগলের নীচে রাখে।আর কিছুক্ষণ পর সেই আপেল তুলে দেয় ভালোলাগার মানুষটির হাতে। ছেলেটি যদি পেলটি খায়, তাহলে বুঝে নিতে হবে যে, সে প্রেম করতে রাজি।
প্রেমে পড়লে ডোপামিন হরমোন-এর অন্য নাম, ‘সুখের হরমোন’ এটি মন ও শরীরে প্রভাব ফেলে। শুধু প্রেমে পড়লেই যে এই হরমোন ক্রিয়াশীল হয় তা কিন্তু নয়, কোকেন বা সিগারেটের নেশা করলেও ডোপামিন উজ্জীবিত হয়। এ কারণেই অনেকে বলেন, প্রেমে পড়া আর নেশা করা একই৷
অস্ট্রিয়ায় মেয়েদের মধ্যে প্রেম নিবেদনের অদ্ভুত এক রেওয়াজ আছে। গ্রাম এলাকায় ঐতিহ্যবাহী নাচের সময় মেয়েরা আপেল নিয়ে বগলের নীচে রাখে।আর কিছুক্ষণ পর সেই আপেল তুলে দেয় ভালোলাগার মানুষটির হাতে। ছেলেটি যদি পেলটি খায়, তাহলে বুঝে নিতে হবে যে, সে প্রেম করতে রাজি।
প্রেমে পড়লে ডোপামিন হরমোন-এর অন্য নাম, ‘সুখের হরমোন’ এটি মন ও শরীরে প্রভাব ফেলে। শুধু প্রেমে পড়লেই যে এই হরমোন ক্রিয়াশীল হয় তা কিন্তু নয়, কোকেন বা সিগারেটের নেশা করলেও ডোপামিন উজ্জীবিত হয়। এ কারণেই অনেকে বলেন, প্রেমে পড়া আর নেশা করা একই৷
Tuesday, September 27, 2016
কাঁঠালের উপকারিতা
একেক ফলের রয়েছে একেক পুষ্টিগুণ। প্রতিটি মৌসুমি ফলই শরীরের নানা রকম ভিটামিন ও খনিজের অভাব পূরণ করতে সাহায্য করে। আর আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালেরও রয়েছে নানা গুণাবলী।
কাঁঠাল একটি সুস্বাদু রসালো ফল। এর রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা। কাঁঠালের উপকারিতা সম্পর্কে কথা বলেন বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান-এর বিভাগীয় প্রধান ফারাহ মাসুদা।
ফারাহ মাসুদা বলেন, “নানান পুষ্টিগুণে ভরপুর কাঁঠাল। কাঁঠালে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এই সকল উপাদান আমাদের শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি ভিটামিনের চাহিদাও পূরণ করে কাঁঠাল।”
সফিকুল ইসলাম।
Monday, September 26, 2016
বাসর রাত
অতিরিক্ত হস্তমৈথুন থেকে বাচার উপায় (বি:দ্রঃ ইসলামে হস্তমৈথুন নিষিদ্ধ)
আমাকে ছেলে মেয়ে অনেকেই মেসেজ করেছেন যে " ভাইয়া কিছুতেই ফিঙ্গারিং বা হাত মারা কন্ট্রল করতে পারছিনা,কিভাবে এটা বন্ধ করব??" সেই সব বন্ধুদের জন্য আমার এই পোস্টঃ
নিয়মিত হস্তমৈথুন শরীরের জন্য ভালো। তবে এটা খুব বেশি করলে এবং সেই অনুপাতে শরীরের যত্ন না নিলে শারীরিক ও মানসিক ভাবে ক্লান্তি আসতে পারে। এটা যাতে নেশায় পরিনত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যাদের কাছে এটা নেশার মত মনে হয়, এবং মনে প্রাণে কমিয়ে দিতে চাইছেন, তাদের জন্য কিছু ব্যবস্থা করণীয় হতে পারে-
১/ প্রথমেই মনে রাখতে হবে, হস্তমৈথুন বা স্বমেহন প্রাণীদের একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটা করে ফেলে কোন প্রকার অনুশোচনা, পাপ, বা অপরাধবোধে ভুগবেন না। মনে রাখবেন আপনি মানুষ। আর মানুষ মাত্রই ভুল করে। এটা করে ফেলার পর যদি মনে করেন ভুল হয়ে গেছে তো সেজন্য অনুশোচনা করবেন না। নিজেকে শাস্তি দেবেন না। বরং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হোন যাতে ভবিষ্যতে মন শক্ত রাখতে পারেন।
২/ যেসব ব্যাপার আপনাকে হস্তমৈথুনের দিকে ধাবিত করে, সেগুলো ছুড়ে ফেলুন, সেগুলো থেকে দূরে থাকুন।যদি মাত্রাতিরিক্ত হস্তমৈথুন থেকে সত্যি সত্য মুক্তি পেতে চান তাহলে পর্ণ মুভি বা চটির কালেকশন থাকলে সেগুলো এক্ষুনি নষ্ট করে ফেলুন। পুড়িয়ে বা ছিড়ে ফেলুন। হার্ডড্রাইব বা মেমরি থেকে এক্ষুনি ডিলিট করে দিন। ইন্টারনেট ব্যবহারের আগে ব্রাউজারে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল-এ গিয়ে এডাল্ট কন্টেন্ট ব্লক করে দিন।কোন সেক্স টয় থাকলে এক্ষুনি গার্বেজ করে দিন।
৩/ কোন কোন সময় হস্তমৈথুন বেশি করেন, সেই সময়গুলো চিহ্নিত করুন। বাথরুম বা ঘুমাতে যাওয়ার আগে যদি উত্তেজিত থাকেন, বা হঠাত কোন সময়ে যদি এমন ইচ্ছে হয়, তাহলে সাথে সাথে কোন শারীরিক পরিশ্রমের কাজে লাগে যান। যেমন বুকডন বা অন্য কোন ব্যায়াম করতে পারেন। যতক্ষণ না শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়, অর্থাৎ হস্তমৈথুন করার মত আর শক্তি না থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই কাজ বা ব্যায়াম করুন। গোসল করার সময় এমন ইচ্ছে জাগলে শুধু ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করুন এবং দ্রুত গোসল ছেড়ে বাথরুম থেকে বের হয়ে আসুন।
৪/অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। সব সময় কোন না কোন কাজে ব্যস্ত থাকুন। আগে থেকে সারাদিনের শিডিউল ঠিক করে রাখুন। তারপর একের পর এক কাজ করে যান। হস্তমৈথুনের চিন্তা মাথায় আসবে না।যারা একা একা সময় বেশি কাটায়, যাদের বন্ধুবান্ধব কম, দেখা গেছে তারাই ঘনঘন হস্তমৈথুন বেশি করে। একা একা না থেকে বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটান। একা একা টিভি না দেখে বন্ধুদের সাথে কিছু করুন। বন্ধুবান্ধব না থাকলে ঘরে বসে না থেকে পাবলিক প্লেসে বেশি সময় কাটান।
৫/ বসে না থেকে সময়টা কাজে লাগান। জীবনকে সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড দিয়ে ভরিয়ে তুলুন। সব সময় নতুন কিছু করার দিকে ঝোঁক থাকলে হস্তমৈথুনের ব্যাপারটা মাথা থেকে দূর হয়ে যাবে। এই সাথে আরো সব বাজে জিনিসগুলোও জীবন থেকে হারিয়ে যাবে। নতুন ভাবে জীবনকে উপলব্ধি করতে পারবেন, বেঁচে থাকার নতুন মানে খুঁজে পাবেন।সৃষ্টিশীল কাজে জড়িয়ে পড়ুন। লেখালেখি করতে পারেন, গান-বাজনা শিখতে পারেন, আঁকাআঁকি করতে পারেন, অথবা আপনি যা পারেন সেটাই করবেন।নিয়মিত খেলাধূলা করুন। ব্যায়াম করুন। এতে মনে শৃঙ্খলাবোধের সৃষ্টি হবে। নিয়মিত হাঁটতে পারেন, দৌড়াতে পারেন, সাঁতার কাটতে পারেন, জিমে গিয়া ব্যায়াম করতে পারেন। বিকেলে ফুটবল, ক্রিকেট- যা ইচ্ছে, কিছু একটা করুন। অফুরন্ত সময় থাকলে সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ুন। দেশ ও দশের জন্য সেবামূলক কাজে জড়িত হোন।
৬/ ধৈর্য ধরতে হবে। একদিনের একটা নেশা থেকে মুক্ত পাবেন, এমন হবে না। একাগ্রতা থাকলে ধীরে ধীরে যে কোন নেশা থেকেই বের হয়ে আসা যায়। মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যাবে। তখন হতাশ হয়ে সব ছেড়ে দেবেন না। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার আগাতে হবে।
৭/ অপরের সাহায্য নিতে ভুল করবেন না। রাতের বেলা হস্তমৈথুন করলে কারো সাথে রুম শেয়ার করুন। বা দরজা জানালা খোলা রেখে আলো জ্বালিয়ে ঘুমান। যখন দেখবেন যে সব চেষ্টা করেও একা একা সফল হতে পারছেন না, তখন বন্ধুবান্ধব, পরিবার, ডাক্তার- এদের সাহায্য নেয়া যায়। এখানে লজ্জার কিছু নাই।
Sunday, September 25, 2016
কেমন নারীকে বিয়ে করা উচিত,
কেমন নারীকে বিবাহ করা উচিত
বিবাহের ক্ষেত্রে এমন নারি নির্বাচন করবে যার মধ্যে ধার্মিকতা ও আমল আখলাকের ক্ষেত্রে স্বামীর চেয়ে উত্তম। এতে সে নারী অর্থ স¤পদের ক্ষেত্রে স্বামী সমতুল্য না হোক তাতে কিছু যায় আসেনা, নারীর চেহারা গোলাকার হলে ভালো হয়। গোলাকার ও লম্বাকৃতির চেহারা সবই আল্লাহর সৃষ্টি। তবে গোলাকার চেহারার নারীর কিছু অতিরিক্ত বৈষিষ্ট থাকে। যা সাংসারিক জীবনে সুখের সৃষ্টি করে। তদ্রুপভাবে স্ত্রী দূরের বংশের হওয়াটা বেশি উপকারী। কারণ নিকটাত্মীয় অর্থা চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো, খালাতো বোন ইত্যাদি আপন আত্মীয়ের মধ্যে দূরের রূরের তুলনায় ভালোবাসা ও মহব্বত কম হয়ে থাকে। এদের থেকে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করে সাধারণত তারা মেধা শক্তি ও জ্ঞান গরিমায় দুর্বল হয়ে থাকে। কখনও কখনও বিকলাঙ্গ বা বিভিন্ন জটিল রোগের শিকার হয়ে থাকে। এজন্য যথা
বিবাহের ক্ষেত্রে এমন নারি নির্বাচন করবে যার মধ্যে ধার্মিকতা ও আমল আখলাকের ক্ষেত্রে স্বামীর চেয়ে উত্তম। এতে সে নারী অর্থ স¤পদের ক্ষেত্রে স্বামী সমতুল্য না হোক তাতে কিছু যায় আসেনা, নারীর চেহারা গোলাকার হলে ভালো হয়। গোলাকার ও লম্বাকৃতির চেহারা সবই আল্লাহর সৃষ্টি। তবে গোলাকার চেহারার নারীর কিছু অতিরিক্ত বৈষিষ্ট থাকে। যা সাংসারিক জীবনে সুখের সৃষ্টি করে। তদ্রুপভাবে স্ত্রী দূরের বংশের হওয়াটা বেশি উপকারী। কারণ নিকটাত্মীয় অর্থা চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো, খালাতো বোন ইত্যাদি আপন আত্মীয়ের মধ্যে দূরের রূরের তুলনায় ভালোবাসা ও মহব্বত কম হয়ে থাকে। এদের থেকে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করে সাধারণত তারা মেধা শক্তি ও জ্ঞান গরিমায় দুর্বল হয়ে থাকে। কখনও কখনও বিকলাঙ্গ বা বিভিন্ন জটিল রোগের শিকার হয়ে থাকে। এজন্য যথা
সম্ভব দূরের কোন নারীকেই বিবাহ করা উচিত। কেননা, দূরের আত্মীয়দের সাথে মহব্বত ভালোবাসা তীক্ষ্ণ হয়ে থাকে। আর সন্তানাদিও জ্ঞান বুদ্ধির দিক দিয়ে তীক্ষ্ণ হয়ে থাকে। সাথে সাথে নতুন করে একটি বংশের সাথে স¤পর্ক করার দ্বারা বংশধারাও বৃদ্ধিপায়। দ্বীনি ও দুনিয়াবী উভয় শিক্ষায় শিক্ষিত পাত্রীকেই বিবাহ করা চাই। একেবারে মূর্খ জাহেল অশিক্ষিত নারী বিবাহ না করাই উত্তম। নারী মোটা হওয়া বা চিকন হওয়া এটা ছেলের পছন্দের উপর নির্ভর করবে। কারো পছন্দ মোটা মেয়ে আবার কারো পছন্দ চিকন ও হালকা পাতলা মেয়ে। তবে অধিকাংশ লোকজন হালকা পাতলা নারীকেই বেশি পছন্দ করে থাকে। পক্ষান্তরে আরবের লোকেরা মোটা পাত্রীকেই বেশি পছন্দ করে।
এক হাদীসে নবী করিম (সা.) বলেন- তোমরা এমন মহিলাকে বিবাহ কর যার থেকে বেশি সন্তান জন্ম নেয়। প্রশ্ন হতে পারে যে বিবাহের আগেই অধিক সন্তান হওয়ার নিদর্শন কি ? এ বিষয়টি বুঝতে হলে উক্ত মেয়ের সহোদরা বোনের কতগুলি সন্তান অথবা উক্ত মেয়ের কতগুলি বোন রয়েছে। কিংবা তার ভাইয়ের সন্তানাদি কতজন। তাদের সন্তানাদি বেশি হলে আশা করা যায় যে এ মহিলার থেকেও অধিক সন্তানাদি হবে। বিবাহের ক্ষেত্রে নির্বাচিতা নারী যেন বাঁজা না হয়। বাঁজা বলা হয় ঐ নারীকে যার সন্তান জন্ম দেয়ার যোগ্যতা নেই।
কেমন নারীকে বিবাহ করা উচিত না
জ্ঞানীরা বলেন, নিন্মোক্ত মেয়েদেরকে বিবাহ না করা উত্তম।
এক। যে সকল মহিলা সব সময় বিরক্ত হয়ে থাকে এবং সবক্ষেত্রেই যে সব মহিলা হা-হুতাশ করে। কিংবা সবসময় যে মহিলা অসুস্থ থাকে। এসব মেয়েদেরকে বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে কোনো কাজেই বরকত পাওয়া যায়না দুই। উপকার করে খোঁটাদানকারী মহিলা। তিন।প্রথম স্বামীর প্রতি আসক্ত মহিলাকে বিবাহ করা থেক বিরত থাকতে হবে । চার। যেসব মহিল সর্বক্ষণ সাজগোজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। পাঁচ। সবসময় অশ্লীল ভাষায় কবা কাজীকারী মহিলাকে বিবাহ করবেনা। ছয়। বাঁচাল বা প্রলাপী মহিলাকেও বিবাহ করতে নেই। সাত। বৃদ্ধ মহিলার সাথে সহবাসে যেহেতু যুবকদের মানসিক দুর্বলতা ও অলসতা সৃষ্টি হয় সেহেতু বৃদ্ধাদেরকে বিবাহ করবেনা। জ্ঞানীরা বলে থাকেন যে যুবতীদেরকে বিবাহ করে সহবাস করার দ্বারা জান তথা ভ্রুণ সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে বৃদ্ধাদেরকে বিবাহ করে সহবাস ক্রয়ার দ্বারা অনিষ্টতা বৃদ্ধি পায়। সে সাথে অলসতা ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
জ্ঞানীরা বলেন, নিন্মোক্ত মেয়েদেরকে বিবাহ না করা উত্তম।
এক। যে সকল মহিলা সব সময় বিরক্ত হয়ে থাকে এবং সবক্ষেত্রেই যে সব মহিলা হা-হুতাশ করে। কিংবা সবসময় যে মহিলা অসুস্থ থাকে। এসব মেয়েদেরকে বিবাহ করলে সাংসারিক জীবনে কোনো কাজেই বরকত পাওয়া যায়না দুই। উপকার করে খোঁটাদানকারী মহিলা। তিন।প্রথম স্বামীর প্রতি আসক্ত মহিলাকে বিবাহ করা থেক বিরত থাকতে হবে । চার। যেসব মহিল সর্বক্ষণ সাজগোজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। পাঁচ। সবসময় অশ্লীল ভাষায় কবা কাজীকারী মহিলাকে বিবাহ করবেনা। ছয়। বাঁচাল বা প্রলাপী মহিলাকেও বিবাহ করতে নেই। সাত। বৃদ্ধ মহিলার সাথে সহবাসে যেহেতু যুবকদের মানসিক দুর্বলতা ও অলসতা সৃষ্টি হয় সেহেতু বৃদ্ধাদেরকে বিবাহ করবেনা। জ্ঞানীরা বলে থাকেন যে যুবতীদেরকে বিবাহ করে সহবাস করার দ্বারা জান তথা ভ্রুণ সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে বৃদ্ধাদেরকে বিবাহ করে সহবাস ক্রয়ার দ্বারা অনিষ্টতা বৃদ্ধি পায়। সে সাথে অলসতা ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
সফিকুল ইসলাম।
ভাল থাকেন সবাই
Saturday, September 24, 2016
তাই আমি চলে যাচ্ছি
কান্নাটা তোমার জন্য ছিলো কি না জানিনা ....
তবে তোমাকে খুব মনে পড়ছিলো....
তাতে কি..., না জানাই থাক ।
তুমি তো এটাও জানতে না যে
তোমায় আমি কতটা ভালোবেসে ছিলাম..
আমার কান্নাকে ছাপিয়ে তুমি হেসেচলেছিলে.
তাও আবার অন্য
কারও জন্য...অন্য কারও সাথে....
আমি চাই তুমি হাসো....
কিন্তু তোমার হাসিটা যে আমায় কষ্ট দেয়.
কারন আমি জানি হাসিটা যে আমার জন্য নয়...
তাই আমি চলে যাচ্ছি .....
হয়তো ফিরবো না আর
কে কিভাবে তার প্রেমিকাকে ভালবাসার কথা প্রকাশ করবেন
১৪ই ফেব্রুয়ারি আসছে ভালবাসা দিবস। এই দিনটিকে সামনে রেখে অনেক প্রেমিক ভাইরা প্লান করে থাকেন, কি করে কাটানো যায় এই দিনটিকে। কেউ কেউ আবার তার মনের মানুষকে প্রপোজও করে থাকেন এই বিশেষ দিনে। একেক জনের প্রপোজ করার ধরন আবার একেক রকম। আবার তাদের মনের অব্যক্ত ভালবাসার কথা বলার ধরনও একেক রকম। তাহলে আসুন জেনে নেই এই ভালবাসা দিবসে কে কিভাবে তার প্রেমিকাকে ভালবাসার কথা জানাতে পারে।
১। ডিজুস প্রেমিকের প্রকাশ
Hey, babes. What’s up? আজকে জোশ একটা দিন কাটাবো তোমার সাথে। I know, তোমার একটু আনইজি লাগবে কিন্তু Whatever! Oh boring! Actually… ummm… u know ……. ইউ আর …….. টু মাচ! Somebody call her mama!!! Ummm… aaa… hey sexy… come on ….
২। বহুলুল প্রেমিকের প্রকাশ
তুমি আসলা আজকে! আসলে মানে ...... তোমাকে দেখে আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তোমাকে আজ অসাধারণ সুন্দরী লাগছে। তবে এত পাতলা শাড়ি পরে এসেছো কেন? সব ......... আসলে......।। আজকে লিটার ............। না মানে সে এমনিতেই আমার সাথে ঘুরতে... আবার এদিকে দুপুরের পর মিতার সাথে আমার আবার......। না মানে রাতে আবার জিনিয়ার সাথে......।। উফফফ! কি হচ্ছে এসব! বাদ দাও। চল, তোমাকে নিয়ে একটা ১৮+ মুভি দেখে আসি। তোমাকে ওখানেই কিছু একটা বলতে চাই।
৩। শিক্ষক প্রেমিকের প্রকাশ
তুমি তো জানোই যে নিউটনের ৩য় সুত্র। নতুন করে বলে দেয়ার কিছু নেই। আমি জানি তুমি আমার ক্লাসের সবচেয়ে মনযোগী ছাত্রী। মাঝে মাঝে তোমাকে পাটিগণিতের সরল পাঠ পড়াতে যেয়ে মনে হয় তোমার চোখের দৃষ্টিতে হারিয়ে গিয়েছি। পরে পথ ফিরে পাই যখন গাছ থেকে ১ টা আপেল আমার মাথায় টুপ করে পরে। তোমাকে আসলে যে কথাটা বলতে চাই সেটা আসলে খুব ছোট একটা কথা। অংকের হিসেবে বিবেচনা করলে ৮ টা সংখ্যা আছে। কবি, লেখকরা দিস্তার পর দিস্তা কালি খরচ করে এই বিষয়ে লিখেছেন। কবি বলেছেন ............।
৪। মাস্তান প্রেমিকের প্রকাশ
ওই হুনসো নি? ঐ পাড়ার কোন বদ পোলা নাকি তোমারে চোখ মারে! আমি কিন্তু কইলাম পুরা সানডে মানডে ক্লোজ কইরা দিমু! ছিল্লা কাইট্টা লবণ লাগাইয়া আচার দিয়া খামু! আমার প্রিয়ার লগে মশকরা করতে আইসে! কোন বাপের ব্যাটা হইসে! এতকিছু বুঝি নাইক্কা। আই তোরে ভালবাসি। এক্ষণ কি কবি ক। আমি এতকিছু জানি না।
৫। রাজনীতিবিদ প্রেমিকের প্রকাশ
আমি নেতার মাথায় হাত রেখে কথা দিচ্ছি, আগামী ৫ বছর তোমাকে আমি রাণী করে রাখবো। এই ৫ বছরে যা কামাবো তা আগামী ২০ বছর ধরে চললেও শেষ হবে না। আমরা আবার ক্ষমতায় আসলে মনে কর যে তোমাকে আমি রাণীর রাণী কইরা রাখুম। আর আমরা আবার আসলেই মনে রাইখো পরের প্রজন্ম তো বটেই তার পরের প্রজন্ম কোন কাম না কইরা বইসা বইসা খাইতে পারবো। এইবার বল তুমি আমাকে ভালবাসো কি না? ............
৬। বোকা প্রেমিকের প্রকাশ
কি আজব! ভালবাসা আবার কি জিনিস! খায় না মাথায় দেয়। এতদিন জানতাম ভাল + বাসা কিন্তু এখন শুনি ভালবাসা! ২ টা তো এক শব্দ না। আমি ভাই এতকিছু বুঝি না। তুমি কি আমাকে কিছু বলবা? এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেন? আচ্ছা সবাই এভাবে আমাদের দিকে এভাবে করে তাকিয়ে আছে কেন?
৭। ডাক্তার প্রেমিকের প্রকাশ
আজ তুমি আমাকে ওটি তে নিয়ে যাও। তারপর সবার অগচোরে আমার বুকে ছুরি চালিয়ে দাও। তারপর নিজেই দেখো এই হৃদয়ে কার নাম লেখা! যদি এভাবে তোমার পরীক্ষা করতে ভয় লাগে তাহলে আমার স্টেথস্কোপটা নাও। আরপর পরীক্ষা করে দেখো কেমন দুরু দুরু করছে এই বুকটা। আর তুমি যদি এভাবে দেরি করতে থাকো তাহলে হয়তো আমার প্রেশার বেড়ে যাবে। রক্ত স্বল্পতাও হতে পারে। ইউরিনের প্রব্লেম হওয়াটা উড়িয়ে দেয়া যায় না। আবার ............
যে যেভাবেই বলুক না কেন, তাদের মনের সব কথার মানে একটা কথাতে যেয়েই থেমে যায়। আর তা হল "আমি তোমাকে ভালবাসি" ।
আর একটি কথা ভালবাসার ছারা কেই কি বেচে থাকতে পারে
Friday, September 16, 2016
Saturday, September 10, 2016
Thursday, September 8, 2016
How to impress the girls in love easily?
I would like to convince the girl. There is no problem to convince one's life. Patabo but did not realize how? Help?
Tags:
Impress girl
Category:
Common
Log in or register to post comments 227009 reads
5 answers
priyo.anSubmitted by priyo.answers on 12 November 2014 - 6:51 pm
If your goal is just to impress a woman's life is OK. If you continue to try to impress him like that out of your mind. To learn these tips for a girl to impress:
Women's lives are like Superman role
If you want to attract the woman of your choice, then his life 'Super Man' was. He was surprised? Super man can not be a little difficult. Just like the man stood by the side of danger you might be able to look at the views of the Super Man.
Always respond to his calls and messages
If the woman you call your favorite hobby or massage if you no matter how busy trying to answer them. Once you've been neglecting your loved ones with a lot of distance can be increased.
Stay beside the difficult advice
Woman's life is the tragedy of your choice? Tell him to accompany him to do the unnecessary reminder. Please try to stay by his side all the time. He will be attracted to you.
Take care of your hair
Women are very much in love with the boys hair. Nice and clean and modern hair cut hair Put yourself with spruce. Women of your choice can easily be attracted to you.
Keep yourself physically impressive
If you want to attract women preferred to stay tuned to your body. Extra weight, very low weight may reduce or bhuri your attention to your loved ones. Besides, your body is beautiful if you can adapt to any robes. Women are now aware of the boys figure. If you want to attract the woman of your choice, so stay tuned to your body type.
Will not run at all without perfumes!
Women always like to smell nice. So the most effective way to attract a woman is elegant, beautiful perfumes. If you want a woman around at least try to use perfume. He will be attracted to you, and you will be his focus.
Keep an eye on the cleanliness and smartness
Women always want to attract and keep an eye on the cleanliness and smartness. Like smart women. Kyasuyala particularly want to dress like women more than men in the formal robes. Therefore, women like myself to get up and try to keep clean and tidy at all times.
Learn to smile and eat elegant posture
Women like men sunny. Such men do not want women to serious gonna let you near. If you want to get in the mind of a woman like all the time, try to stay light-hearted. Talk to yourself, please niyajita rasalapa and different kinds of work convincingly. Also to be kind to eat smart. Leave eat or scattered sound eating habits. If you like your women will easily interest to you.
Learn to speak eye
If you like to get in the mind of a woman with her eye and talk all the time. Do not keep any kind of hesitation about the message. Or retreat to the materiality of the message does not like women at all. Tell your attraction to him directly if possible. It is your choice whether or not a woman would be a good idea to her and she will be attracted to your nirbhikatara
In addition:
Increases manifold to attract the eyes of men and women in a variety of 6! It has gone from adimayuga aakarsanabodha that both men and women both will be around and love one another. Is a great attraction to certain things, such as women's, men's just something that happened, there is a woman in particular is impressed by his talent. Man caught sight of a woman's increased manifold. Interestingly, quite a few of the tasks that are not good times. It is customarily bad! Details: http://www.priyo.com/2014/10/17/113031.html
What is the interest of men and women? : From the beginning men and women feel attracted to one another. It is caused by natural laws. However, some exceptions to the eye. He, however, between women and men will have this interest. Every man is different, as different as their choice. One of the many choices of what to others might not like. Details:
Personality characteristics of men and 15 women in the eyes of the man's extraordinary personality to attract women is strong. More than double the amount of women that attracts men and women look or personality. Personality man would never think that a woman who believes in him will not hurt, do not use bad man, and he will be safe. Personality man's eyes than the extent of the application, so there is no one else. Details: http: //www.priyo.com/2014/10/30/115955.htm
That man loves a woman of 10: In essence, women do not understand the mind of the Divine Self! The men will understand the mind of a woman, she's a little hard to laugh! What can be found in the woman's mind about it ever has been a lot of debate, research and debate. It is because, like women to achieve love. Sadhanarata women self-reliant, Personality and romantic love men. So let us know what features between men and women, it can be won over. Details:
Google Translate for Business:Translator ToolkitWebsite TranslatorGlobal Market Finder
About Google TranslateCommunityMobileAbout GooglePrivacy & TermsHelpSend feedback
Wednesday, September 7, 2016
- Apple r10 Health Benefits of Eating an apple evey day 1!
Eating an apple a day does not go to the doctor or not, many people may have heard of the word. Apple is a delicious fruit. Petao playing with apple apple as a snack, because there is no pair. Children like to eat due to the dazzling color of the fruit. Let's get to know every 10 health benefits of eating apples.
Apple pratirodhah breast cancer helps prevent cancer. The body, which is a component of apple pekatina prevent colon cancer. Lung cancer and liver cancer are the apple.
Hart has a good apple rakheh phaitoniutriyenta elements, which are highly beneficial for heart health.
Weight control: The average daily consumption of 3 apples is quite easy to keep the weight under control.
Rakheh apple juice is good for the teeth whitening to destroy harmful bacteria. As a result, the teeth are good.
The study found that eating apples every day like skin: The skin is a different issue.
Eating an apple every day bareh digestion ability of beneficial bacteria in the stomach to digest | As a result, increases the power of digestion.
The bones are strong enough: the apple boron, which helps keep bones strong.
Eating an apple every day ayalajheimarsa pratirodhah bayasajanita ayalajheimarsa complex disease that can be prevented.
Panisunyata hate apple so that there is plenty of water and remove panisunyata thirst and helps keep the body cool.
The name is an element to control diabetes: the apple pekatina. Pekatina the right amount of insulin and helps to control diabetes.
Google Translate for Business:Translator ToolkitWebsite TranslatorGlobal Market Finder
Apple is the better
Monday, September 5, 2016
Picture this: Joe and Lisa are meeting for the first time. They’ve come to a quiet little coffee shop. The atmosphere is welcoming, the music soothing, and the lattés tasty. It’s the first date either one has been on in a long time.
Both recently endured the end of long-term relationships. Each now looks across the table and thinks the same thing: “Am I really ready to try again? I just don’t know.”
Years ago, Joe married his high school sweetheart. She was more than a lover. She was his best friend, partner, and co-adventurer. He often said his wife may not have been perfect—but she was perfect for him. When she died of breast cancer, he had no doubt: what they had was irreplaceable.
Years ago, Joe married his high school sweetheart. She was more than a lover. She was his best friend, partner, and co-adventurer. He often said his wife may not have been perfect—but she was perfect for him. When she died of breast cancer, he had no doubt: what they had was irreplaceable.
Lisa, by contrast, had survived a painful relationship from a man who set new records for critical, controlling behavior. He shadowed her every movement, counted every penny she spent, monitored phone records, and intimidated her friends. By the time the relationship was over, she‘d concluded that all romantic relationships were fundamentally flawed.
Both feeling wounded in their own way, they each think, “I’m not sure I can do this again.” But they are wrong. And so are you, if you happen to agree with that outlook. There is love after bitter loss, no matter which kind. The truth is, romance can be better the second time around — richer and even more fulfilling.
Why? Because you are not the same person you were then. Chances are, your experience has changed the way you give and receive love for the better. These changes are assets, not liabilities, when you decide to try again.
For instance, now you are probably more…
Saturday, September 3, 2016
গল্প বলি
১টি ছেলে বিয়ে করার জন্য মেয়ে
দেখতে গেল ।
মেয়েটা তার ভাল লাগলো ।
তার পর সবাই সবার সব
কিছু খুজ খবর নিলো ।
তার ১৫ দিন পর ছেলেটার পক্ষ
থেকে মানুষ জন গিয়ে মেয়েটার
হাতে আংটি পড়িয়ে
দেয় আর বিয়ের কথা পাকা করে
আসে । তার পরে
তাদের মাঝে ফোনালাপ চলতে
থাকে
। তার ৩ দিন
পর ফোনের আলাপ আলোচন :-
ছেলে:- আচ্ছা তুমি কি আরও
পড়তে
চাও?
মেয়ে :- হ্যা... কারণ আমার
আশা ছিল ডাঃ
হবো ।
ছেলে:- ডাঃ হলে তুমি খুশি
হবে ?
মেয়ে :- হ্যা.. এটাই আমার
সবচেয়ে
বড় চাওয়া
খোদার কাছে । আর চাইলে কি
সব
পারবো ?
ছেলে:- কেনো ?
মেয়ে :- কারণ.. ১। আমার বিয়ে
হয়ে
গেছে ২। আমার
বাবার এত টাকা নাই ।
ছেলে:- আমার তো আছে ।
তোমাকে আর কিছু দিতে
পারি আর না পারি । তবে
তোমার আশাটা
আমি পুরন
করব । তুমি কি পড়তে রাজি ??
মেয়ে :- হ্যা. কিন্তু বিয়ের আর
মাএ ৯
দিন বাকী ।
সেটার কি হবে??
ছেলে:- এটা আমার উপর ছেড়ে
দাও
।
মেয়ে :- OK.
ছেলে তার ফেমিলির সবাইকে
বুঝিয়ে
বলে, আর সবাই
রাজি হল । মেয়ের লেখা পড়ার
জন্য
সব খরচ
ছেলেটা দিচ্ছে এবং দেখা শুনা
ঠিকমত
ছিল কিন্তু
কিছু দিন পর ।
মেয়ে :- আমার ১টা কথা
রাখবে ?
ছেলে:- হ্যা. বল আমি কি করতে
পারি?
মেয়ে :- কিছু মনে করনা। আমার
সাথে
আর দেখা
করিওনা !
ছেলে:- কিন্তু কেনো?
মেয়ে :- তোমাকে দেখলে
নিজেকে ধরে রাখতে
পারিনা। ওদিকে আমার
পরীক্ষার ২ বছর
বাকী। যদি
ফেল করি সমাজে মুখ দেখাতে
পারবো না। আর
তোমার টাকা ও কষ্ট বিথা
যাবে।
ছেলে:- OK. কিন্তু ফোনে কথা
বলবা না ?
মেয়ে :- হ্যা.
ছেলে:- ok.
২ বছর পর মেয়েটা পরীক্ষা দিল
এবং
পাশ করল ।
সেই
খুশিতে মেয়ের বাড়ীতে
মেহমান
বরপুর । কিন্তু
ছেলেটাকে বলল না । কারণ এখন
ঐ
ছেলেকে স্বামী
হিসেবে সবার সামনে পরিচয়
করাতে
পারবে না বলে ।
তার ১৫ দিন পর মেয়েটা একটি
চেম্বার
নিয়ে বসে ।
তখন জানতে পেরে ছেলেটা
তাকে ফোন দিলে
মেয়েটা ফোন কেটে দেয় এবং
বন্ধ করে দেয় ।
ছেলেটা তার বাড়ীতে যায় । আর
মেয়ে তাকে বলল.
মেয়ে :- আমাকে ক্ষমা করে দাও
এবং
মনে কষ্ট
নিওনা। আমি তোমাকে বিয়ে
করতে
পারবোনা ।
ছেলে:- কেন?
মেয়ে :- কারণ তুমি আমার যোগ্য
না
এবং লেখা
পড়াও জানো না ।
ছেলে:- আমাদের ফেমিলি
থেকে
যে সব ঠিক করা ?
মেয়ে :- ওটা আগে ছিল। আমি
এখন তা
মানতে
পারবোনা ।
ছেলে:- দু চোখ ভরা কান্না
নিয়ে
বলল । OK. আমি
তোমার জন্য দোয়া করি ভাল
থেকো। বলে চলে
আসলো ।
কিছু দিন পরে ছেলেটা অসুস্থ
হয়ে
পড়ে । আর ঐ
দিকে মেয়েটা এক হাসপাতালের
বড় ডাঃ
হয়।
ছেলেটার অবস্থা খারাপ দেখে
ঐ
হাসপাতালে নিয়ে
যায় । ঐ খানে এক ডাঃ তাকে
দেখে
চিনে ফেলে ।
আর ওর ফেমিলির সবাইকে বকা
জকা
করল । কারণ
অনেক লেট করে ফেলেছে ।
তখন মেয়েটা ঐ ডাঃ কে
বলল আপনি ওদের বকছেন কেন ??
তখন ডাঃ বলল এই
মানুষটা আজ থেকে প্রায় ৫ বছর
আগে ওর বউয়ের
ডাক্তারী পড়তে টাকা লাগবে
বলে ১টি
কিডনী বিক্রি
করল । আমি নিষেধ করলে সে বলল
আমার বউ ডাঃ
হলে আমাকে সে ভালো করে
দিবে । তা শুনে
মেয়েটা মনে মনে বলল :- আমি
কার
সাথে কি
করলাম ??
কি বুঝলেন ???
১টি ছেলে বিয়ে করার জন্য মেয়ে
দেখতে গেল ।
মেয়েটা তার ভাল লাগলো ।
তার পর সবাই সবার সব
কিছু খুজ খবর নিলো ।
তার ১৫ দিন পর ছেলেটার পক্ষ
থেকে মানুষ জন গিয়ে মেয়েটার
হাতে আংটি পড়িয়ে
দেয় আর বিয়ের কথা পাকা করে
আসে । তার পরে
তাদের মাঝে ফোনালাপ চলতে
থাকে
। তার ৩ দিন
পর ফোনের আলাপ আলোচন :-
ছেলে:- আচ্ছা তুমি কি আরও
পড়তে
চাও?
মেয়ে :- হ্যা... কারণ আমার
আশা ছিল ডাঃ
হবো ।
ছেলে:- ডাঃ হলে তুমি খুশি
হবে ?
মেয়ে :- হ্যা.. এটাই আমার
সবচেয়ে
বড় চাওয়া
খোদার কাছে । আর চাইলে কি
সব
পারবো ?
ছেলে:- কেনো ?
মেয়ে :- কারণ.. ১। আমার বিয়ে
হয়ে
গেছে ২। আমার
বাবার এত টাকা নাই ।
ছেলে:- আমার তো আছে ।
তোমাকে আর কিছু দিতে
পারি আর না পারি । তবে
তোমার আশাটা
আমি পুরন
করব । তুমি কি পড়তে রাজি ??
মেয়ে :- হ্যা. কিন্তু বিয়ের আর
মাএ ৯
দিন বাকী ।
সেটার কি হবে??
ছেলে:- এটা আমার উপর ছেড়ে
দাও
।
মেয়ে :- OK.
ছেলে তার ফেমিলির সবাইকে
বুঝিয়ে
বলে, আর সবাই
রাজি হল । মেয়ের লেখা পড়ার
জন্য
সব খরচ
ছেলেটা দিচ্ছে এবং দেখা শুনা
ঠিকমত
ছিল কিন্তু
কিছু দিন পর ।
মেয়ে :- আমার ১টা কথা
রাখবে ?
ছেলে:- হ্যা. বল আমি কি করতে
পারি?
মেয়ে :- কিছু মনে করনা। আমার
সাথে
আর দেখা
করিওনা !
ছেলে:- কিন্তু কেনো?
মেয়ে :- তোমাকে দেখলে
নিজেকে ধরে রাখতে
পারিনা। ওদিকে আমার
পরীক্ষার ২ বছর
বাকী। যদি
ফেল করি সমাজে মুখ দেখাতে
পারবো না। আর
তোমার টাকা ও কষ্ট বিথা
যাবে।
ছেলে:- OK. কিন্তু ফোনে কথা
বলবা না ?
মেয়ে :- হ্যা.
ছেলে:- ok.
২ বছর পর মেয়েটা পরীক্ষা দিল
এবং
পাশ করল ।
সেই
খুশিতে মেয়ের বাড়ীতে
মেহমান
বরপুর । কিন্তু
ছেলেটাকে বলল না । কারণ এখন
ঐ
ছেলেকে স্বামী
হিসেবে সবার সামনে পরিচয়
করাতে
পারবে না বলে ।
তার ১৫ দিন পর মেয়েটা একটি
চেম্বার
নিয়ে বসে ।
তখন জানতে পেরে ছেলেটা
তাকে ফোন দিলে
মেয়েটা ফোন কেটে দেয় এবং
বন্ধ করে দেয় ।
ছেলেটা তার বাড়ীতে যায় । আর
মেয়ে তাকে বলল.
মেয়ে :- আমাকে ক্ষমা করে দাও
এবং
মনে কষ্ট
নিওনা। আমি তোমাকে বিয়ে
করতে
পারবোনা ।
ছেলে:- কেন?
মেয়ে :- কারণ তুমি আমার যোগ্য
না
এবং লেখা
পড়াও জানো না ।
ছেলে:- আমাদের ফেমিলি
থেকে
যে সব ঠিক করা ?
মেয়ে :- ওটা আগে ছিল। আমি
এখন তা
মানতে
পারবোনা ।
ছেলে:- দু চোখ ভরা কান্না
নিয়ে
বলল । OK. আমি
তোমার জন্য দোয়া করি ভাল
থেকো। বলে চলে
আসলো ।
কিছু দিন পরে ছেলেটা অসুস্থ
হয়ে
পড়ে । আর ঐ
দিকে মেয়েটা এক হাসপাতালের
বড় ডাঃ
হয়।
ছেলেটার অবস্থা খারাপ দেখে
ঐ
হাসপাতালে নিয়ে
যায় । ঐ খানে এক ডাঃ তাকে
দেখে
চিনে ফেলে ।
আর ওর ফেমিলির সবাইকে বকা
জকা
করল । কারণ
অনেক লেট করে ফেলেছে ।
তখন মেয়েটা ঐ ডাঃ কে
বলল আপনি ওদের বকছেন কেন ??
তখন ডাঃ বলল এই
মানুষটা আজ থেকে প্রায় ৫ বছর
আগে ওর বউয়ের
ডাক্তারী পড়তে টাকা লাগবে
বলে ১টি
কিডনী বিক্রি
করল । আমি নিষেধ করলে সে বলল
আমার বউ ডাঃ
হলে আমাকে সে ভালো করে
দিবে । তা শুনে
মেয়েটা মনে মনে বলল :- আমি
কার
সাথে কি
করলাম ??
কি বুঝলেন ???
Thursday, September 1, 2016
Ranks top tips somiya: বাংলা নতুন গান মন ভালকরার গানৃ। জীবনে ভালোবেসে কর...
শেষের কবিতা ১
অমিত রায় ব্যারিস্টার। ইংরেজি ছাঁদে রায় পদবী "রয়" ও "রে" রূপান্তর যখন ধারণ করলে তখন তার শ্রী গেল ঘুচে কিন্তু সংখ্যা হল বৃদ্ধি। এই কারণে, নামের অসামান্যতা কামনা করে অমিত এমন একটি বানান বানালে যাতে ইংরেজ বন্ধু ও বন্ধুনীদের মুখে তার উচ্চারণ দাঁড়িয়ে গেল-- অমিট রায়ে।
অমিতর বাপ ছিলেন দিগ্বিজয়ী ব্যারিস্টার। যে পরিমাণ টাকা তিনি জমিয়ে গেছেন সেটা অধস্তন তিন পুরুষকে অধঃপাতে দেবার পক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু পৈতৃক সম্পত্তির সাংঘাতিক সংঘাতেও অমিত বিনা বিপত্তিতে এ যাত্রা টিঁকে গেল।
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি. এ.'র কোঠায় পা দেবার পূর্বেই অমিত অক্স্ফোর্ডে ভর্তি হয়; সেখানে পরীক্ষা দিতে দিতে এবং না দিতে দিতে ওর সাত বছর গেল কেটে। বুদ্ধি বেশি থাকাতে পড়াশুনো বেশি করে নি, অথচ বিদ্যেতে কমতি আছে বলে ঠাহর হয় না। ওর বাপ ওর কাছ থেকে অসাধারণ কিছু প্রত্যাশা করেন নি। তাঁর ইচ্ছে ছিল, তাঁর একমাত্র ছেলের মনে অক্স্ফোর্ডের রঙ এমন পাকা করে ধরে যাতে দেশে এসেও ধোপ সয়।
অমিতকে আমি পছন্দ করি। খাসা ছেলে। আমি নবীন লেখক, সংখ্যায় আমার পাঠক স্বল্প, যোগ্যতায় তাদের সকলের সেরা অমিত। আমার লেখার ঠাট-ঠমকটা ওর চোখে খুব লেগেছে। ওর বিশ্বাস, আমাদের দেশের সাহিত্যবাজারে যাদের নাম আছে তাদের স্টাইল নেই। জীবসৃষ্টিতে উট জন্তুটা যেমন, এই লেখকদের রচনাও তেমনি ঘাড়ে-গর্দানে সামনে-পিছনে পিঠে-পেটে বেখাপ, চালটা ঢিলে নড়বড়ে, বাংলা-সাহিত্যের মতো ন্যাড়া ফ্যাকাশে মরুভূমিতেই তার চলন। সমালোচকদের কাছে সময় থাকতে বলে রাখা ভালো, মতটা আমার নয়।
অমিত বলে, ফ্যাশানটা হল মুখোশ, স্টাইলটা হল মুখশ্রী। ওর মতে যারা সাহিত্যের ওমরাও-দলের, যারা নিজের মন রেখে চলে, স্টাইল তাদেরই। আর যারা আমলা-দলের, দশের মন রাখা যাদের ব্যাবসা, ফ্যাশান তাদেরই। বঙ্কিমি স্টাইল বঙ্কিমের লেখা "বিষবৃক্ষে", বঙ্কিম তাতে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন; বঙ্কিমি ফ্যাশান নসিরামের লেখা "মনোমোহনের মোহনবাগানে", নসিরাম তাতে বঙ্কিমকে দিয়েছে মাটি করে। বারোয়ারি তাঁবুর কানাতের নীচে ব্যাবসাদার নাচওয়ালির দর্শন মেলে, কিন্তু শুভদৃষ্টিকালে বধূর মুখ দেখবার বেলায় বেনারসি ওড়নার ঘোমটা চাই। কানাত হল ফ্যাশানের, আর বেনারসি হল স্টাইলের, বিশেষের মুখ বিশেষ রঙের ছায়ায় দেখবার জন্যে। অমিত বলে, হাটের লোকের পায়ে-চলা রাস্তার বাইরে আমাদের পা সরতে ভরসা পায় না বলেই আমাদের দেশে স্টাইলের এত অনাদর। দক্ষযজ্ঞের গল্পে এই কথাটির পৌরাণিক ব্যাখ্যা মেলে। ইন্দ্র চন্দ্র বরুণ একেবারে স্বর্গের ফ্যাশানদুরস্ত দেবতা, যাজ্ঞিকমহলে তাঁদের নিমন্ত্রণও জুটত। শিবের ছিল স্টাইল, এত ওরিজিন্যাল যে, মন্ত্রপড়া যজমানেরা তাঁকে হব্যকব্য দেওয়াটা বেদস্তুর বলে জানত। অক্স্ফোর্ডের বি. এ.'র মুখে এ-সব কথা শুনতে আমার ভালো লাগে। কেননা, আমার বিশ্বাস, আমার লেখায় স্টাইল আছে-- সেইজন্যেই আমার সকল বইয়েরই এক সংস্করণেই কৈবল্যপ্রাপ্তি, তারা "ন পুনরাবর্তন্তে"।
আমার শ্যালক নবকৃষ্ণ অমিতর এ-সব কথা একেবারে সইতে পারত না-- বলত, "রেখে দাও তোমার অক্স্ফোর্ডের পাস।" সে ছিল ইংরেজি সাহিত্যে রোমহর্ষক এম. এ.; তাকে পড়তে হয়েছে বিস্তর, বুঝতে হয়েছে অল্প। সেদিন সে আমাকে বললে, "অমিত কেবলই ছোটো লেখককে বড়ো করে বড়ো লেখককে খাটো করবার জন্যেই। অবজ্ঞার ঢাক পিটোবার কাজে তার শখ, তোমাকে সে করেছে তার ঢাকের কাঠি।" দুঃখের বিষয়, এই আলোচনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন আমার স্ত্রী, স্বয়ং ওর সহোদরা। কিন্তু পরম সন্তোষের বিষয় এই যে, আমার শ্যালকের কথা তাঁর একটুও ভালো লাগে নি। দেখলুম, অমিতর সঙ্গেই তাঁর রুচির মিল, অথচ পড়াশুনো বেশি করেন নি। স্ত্রীলোকের আশ্চর্য স্বাভাবিক বুদ্ধি!
অনেক সময় আমার মনেও খটকা লাগে যখন দেখি, কত কত নামজাদা ইংরেজ লেখকদেরকেও নগণ্য করতে অমিতর বুক দমে না। তারা হল, যাদের বলা যেতে পারে বহুবাজারে চলতি লেখক, বড়োবাজারের ছাপ-মারা; প্রশংসা করবার জন্যে যাদের লেখা পড়ে দেখবার দরকারই হয় না, চোখ বুজে গুণগান করলেই পাসমার্ক্ পাওয়া যায়। অমিতর পক্ষেও এদের লেখা পড়ে দেখা অনাবশ্যক, চোখ বুজে নিন্দে করতে ওর বাধে না। আসলে, যারা নামজাদা তারা ওর কাছে বড়ো বেশি সরকারি, বর্ধমানের ওয়েটিংরুমের মতো; আর যাদেরকে ও নিজে আবিষ্কার করেছে তাদের উপর ওর খাসদখল, যেন স্পেশাল ট্রেনের সেলুন কামরা।
অমিতর নেশাই হল স্টাইলে। কেবল সাহিত্য-বাছাই কাজে নয়, বেশে ভূষায় ব্যবহারে। ওর চেহারাতেই একটা বিশেষ ছাঁদ আছে। পাঁচজনের মধ্যে ও যে-কোনো একজন মাত্র নয়, ও হল একেবারে পঞ্চম। অন্যকে বাদ দিয়ে চোখে পড়ে। দাড়িগোঁফ-কামানো চাঁচা মাজা চিকন শ্যামবর্ণ পরিপুষ্ট মুখ, স্ফূর্তিভরা ভাবটা, চোখ চঞ্চল, হাসি চঞ্চল, নড়াচড়া চলাফেরা চঞ্চল, কথার জবাব দিতে একটুও দেরি হয় না; মনটা এমন এক রকমের চকমকি যে, ঠুন করে একটু ঠুকলেই স্ফুলিঙ্গ ছিটকে পড়ে। দেশী কাপড় প্রায়ই পরে, কেননা ওর দলের লোক সেটা পরে না। ধুতি সাদা থানের যত্নে কোঁচানো, কেননা ওর বয়সে এরকম ধুতি চলতি নয়। পাঞ্জাবি পরে, তার বাঁ কাঁধ থেকে বোতাম ডান দিকের কোমর অবধি, আস্তিনের সামনের দিকটা কনুই পর্যন্ত দু-ভাগ করা; কোমরে ধুতিটাকে ঘিরে একটা জরি-দেওয়া চওড়া খয়েরি রঙের ফিতে, তারই বাঁ দিকে ঝুলছে বৃন্দাবনী ছিটের এক ছোটো থলি, তার মধ্যে ওর ট্যাঁকঘড়ি; পায়ে সাদা চামড়ার উপর লাল চামড়ার কাজ-করা কটকি জুতো। বাইরে যখন যায় একটা পাট-করা পাড়ওয়ালা মাদ্রাজি চাদর বাঁ কাঁধ থেকে হাঁটু অবধি ঝুলতে থাকে; বন্ধুমহলে যখন নিমন্ত্রণ থাকে মাথায় চড়ায় এক মুসলমানি লক্ষ্মৌ টুপি, সাদার উপর সাদা কাজ-করা। একে ঠিক সাজ বলব না, এ হচ্ছে ওর এক রকমের উচ্চ হাসি। ওর বিলিতি সাজের মর্ম আমি বুঝি নে, যারা বোঝে তারা বলে-- কিছু আলুথালু গোছের বটে, কিন্তু ইংরেজিতে যাকে বলে ডিস্টিঙ্গুইশ্ড্। নিজেকে অপরূপ করবার শখ ওর নেই, কিন্তু ফ্যাশানকে বিদ্রূপ করবার কৌতুক ওর অপর্যাপ্ত। কোনোমতে বয়স মিলিয়ে যারা কুষ্ঠির প্রমাণে যুবক তাদের দর্শন মেলে পথে ঘাটে; অমিতর দুর্লভ যুবকত্ব নির্জলা যৌবনের জোরেই, একেবারে বেহিসেবি, উড়নচণ্ডী, বান ডেকে ছুটে চলেছে বাইরের দিকে, সমস্ত নিয়ে চলেছে ভাসিয়ে, হাতে কিছুই রাখে না।
এ দিকে ওর দুই বোন, যাদের ডাকনাম সিসি এবং লিসি, যেন নতুন বাজারে অত্যন্ত হালের আমদানি-- ফ্যাশানের পসরায় আপাদমস্তক যত্নে মোড়ক-করা পয়লা নম্বরের প্যাকেট-বিশেষ। উঁচু খুরওয়ালা জুতো, লেসওয়ালা বুক-কাটা জ্যাকেটের ফাঁকে প্রবালে অ্যাম্বারে মেশানো মালা, শাড়িটা গায়ে তির্যগ্ভঙ্গিতে আঁট করে ল্যাপ্টানো। এরা খুট খুট করে দ্রুত লয়ে চলে; উচ্চৈঃস্বরে বলে; স্তরে স্তরে তোলে সূক্ষ্মাগ্র হাসি; মুখ ঈষৎ বেঁকিয়ে স্মিতহাস্যে উঁচু কটাক্ষে চায়, জানে কাকে বলে ভাবগর্ভ চাউনি; গোলাপি রেশমের পাখা ক্ষণে ক্ষণে গালের কাছে ফুর ফুর করে সঞ্চালন করে, এবং পুরুষবন্ধুর চৌকির হাতার উপরে বসে সেই পাখার আঘাতে তাদের কৃত্রিম স্পর্ধার প্রতি কৃত্রিম তর্জন প্রকাশ করে থাকে।
আপন দলের মেয়েদের সঙ্গে অমিতর ব্যবহার দেখে তার দলের পুরুষদের মনে ঈর্ষার উদয় হয়। নির্বিশেষ ভাবে মেয়েদের প্রতি অমিতর ঔদাসীন্য নেই, বিশেষ ভাবে কারো প্রতি আসক্তিও দেখা যায় না, অথচ সাধারণভাবে কোনোখানে মধুর রসেরও অভাব ঘটে না। এক কথায় বলতে গেলে মেয়েদের সম্বন্ধে ওর আগ্রহ নেই, উৎসাহ আছে। অমিত পার্টিতেও যায়, তাসও খেলে, ইচ্ছে করেই বাজিতে হারে, যে রমণীর গলা বেসুরো তাকে দ্বিতীয়বার গাইতে পীড়াপীড়ি করে, কাউকে বদ-রঙের কাপড় পরতে দেখলে জিজ্ঞাসা করে কাপড়টা কো্ন দোকানে কিনতে পাওয়া যায়। যে-কোনো আলাপিতার সঙ্গেই কথা ব'লে বিশেষ পক্ষপাতের সুর লাগায়; অথচ সবাই জানে, ওর পক্ষপাতটা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। যে মানুষ অনেক দেবতার পূজারি, আড়ালে সব দেবতাকেই সে সব দেবতার চেয়ে বড়ো বলে স্তব করে; দেবতাদের বুঝতে বাকি থাকে না, অথচ খুশিও হন। কন্যার মাতাদের আশা কিছুতেই কমে না, কিন্তু কন্যারা বুঝে নিয়েছে, অমিত সোনার রঙের দিগন্তরেখা, ধরা দিয়েই আছে তবু কিছুতেই ধরা দেবে না। মেয়েদের সম্বন্ধে ওর মন তর্কই করে, মীমাংসায় আসে না। সেইজন্যেই গম্যবিহীন আলাপের পথে ওর এত দুঃসাহস। তাই অতি সহজেই সকলের সঙ্গে ও ভাব করতে পারে, নিকটে দাহ্যবস্তু থাকলেও ওর তরফে আগ্নেয়তা নিরাপদে সুরক্ষিত।
সেদিন পিকনিকে গঙ্গার ধারে যখন ও পারের ঘন কালো পুঞ্জীভূত স্তব্ধতার উপরে চাঁদ উঠল, ওর পাশে ছিল লিলি গাঙ্গুলি। তাকে ও মৃদুস্বরে বললে, "গঙ্গার ও পারে ঐ নতুন চাঁদ, আর এ পারে তুমি আর আমি, এমন সমাবেশটি অনন্তকালের মধ্যে কোনাদিনই আর হবে না।"
প্রথমটা লিলি গাঙ্গুলির মন এক মুহূর্তে ছল্ছলিয়ে উঠেছিল; কিন্তু সে জানত, এ কথাটায় যতখানি সত্য সে কেবল ঐ বলার কায়দাটুকুর মধ্যেই। তার বেশি দাবি করতে গেলে বুদ্বুদের উপরকার বর্ণচ্ছটাকে দাবি করা হয়। তাই নিজেকে ক্ষণকালের ঘোর-লাগা থেকে ঠেলা দিয়ে লিলি হেসে উঠল, বললে, "অমিট, তুমি যা বললে সেটা এত বেশি সত্য যে, না বললেও চলত। এইমাত্র যে ব্যাঙটা টপ করে জলে লাফিয়ে পড়ল এটাও তো অনন্তকালের মধ্যে আর কোনোদিন ঘটবে না।"
অমিত হেসে উঠে বললে, "তফাত আছে, লিলি, একেবারে অসীম তফাত। আজকের সন্ধ্যাবেলায় ঐ ব্যাঙের লাফানোটা একটা খাপছাড়া ছেঁড়া জিনিস। কিন্তু তোমাতে আমাতে চাঁদেতে, গঙ্গার ধারায়, আকাশের তারায়, একটা সম্পূর্ণ ঐকতানিক সৃষ্টি-- বেটোফেনের চন্দ্রালোক-গীতিকা। আমার মনে হয় যেন বিশ্বকর্মার কারখানায় একটা পাগলা স্বর্গীয় স্যাকরা আছে; সে যেমনি একটি নিখুঁত সুগোল সোনার চক্রে নীলার সঙ্গে হীরে এবং হীরের সঙ্গে পান্না লাগিয়ে এক প্রহরের আঙটি সম্পূর্ণ করলে অমনি দিলে সেটা সমুদ্রের জলে ফেলে, আর তাকে খুঁজে পাবে না কেউ।"
"ভালোই হল, তোমার ভাবনা রইল না, অমিট, বিশ্বকর্মার স্যাকরার বিল তোমাকে শুধতে হবে না।"
"কিন্তু লিলি, কোটি কোটি যুগের পর যদি দৈবাৎ তোমাতে আমাতে মঙ্গলগ্রহের লাল অরণ্যের ছায়ায় তার কোনো-একটা হাজার-ক্রোশী খালের ধারে মুখোমুখি দেখা হয়, আর যদি শকুন্তলার সেই জেলেটা বোয়াল মাছের পেট চিরে আজকের এই অপরূপ সোনার মুহূর্তটিকে আমাদের সামনে এনে ধরে, চমকে উঠে মুখ-চাওয়া-চাউয়ি করব, তার পরে কী হবে ভেবে দেখো।"
লিলি অমিতকে পাখার বাড়ি তাড়না করে বললে, "তার পরে সোনার মুহূর্তটি অন্যমনে খসে পড়বে সমুদ্রের জলে। আর তাকে পাওয়া যাবে না। পাগলা স্যাকরার গড়া এমন তোমার কত মুহূর্ত খসে পড়ে গেছে, ভুলে গেছ বলে তার হিসেব নেই।"
এই বলে লিলি তাড়াতাড়ি উঠে তার সখীদের সঙ্গে গিয়ে যোগ দিলে। অনেক ঘটনার মধ্যে এই একটা ঘটনার নমুনা দেওয়া গেল।
অমিতর বোন সিসি-লিসিরা ওকে বলে, "অমি, তুমি বিয়ে কর না কেন?"
অমিত বলে, "বিয়ে ব্যাপারটায় সকলের চেয়ে জরুরি হচ্ছে পাত্রী, তার নীচেই পাত্র।"
সিসি বলে, "অবাক করলে, মেয়ে এত আছে।"
অমিত বলে, "মেয়ে বিয়ে করত সেই পুরাকালে, লক্ষণ মিলিয়ে। আমি চাই পাত্রী আপন পরিচয়েই যার পরিচয়, জগতে যে অদ্বিতীয়।"
সিসি বলে, "তোমার ঘরে এলেই তুমি হবে প্রথম, সে হবে দ্বিতীয়, তোমার পরিচয়েই হবে তার পরিচয়।"
অমিত বলে, "আমি মনে মনে যে মেয়ের ব্যর্থ প্রত্যাশায় ঘটকালি করি সে গরঠিকানা মেয়ে। প্রায়ই সে ঘর পর্যন্ত এসে পৌঁছয় না। সে আকাশ থেকে পড়ন্ত তারা, হৃদয়ের বায়ুমণ্ডল ছুঁতে-না-ছুঁতেই জ্বলে ওঠে, বাতাসে যায় মিলিয়ে, বাস্তুঘরের মাটি পর্যন্ত আসা ঘটেই ওঠে না।"
সিসি বলে, "অর্থাৎ, সে তোমার বোনেদের মতো একটুও না।"
অমিত বলে, "অর্থাৎ, সে ঘরে এসে কেবল ঘরের লোকেরই সংখ্যা বৃদ্ধি করে না।"
লিসি বলে, "আচ্ছা ভাই সিসি, বিমি বোস তো অমির জন্যে পথ চেয়ে তাকিয়ে আছে, ইশারা করলেই ছুটে এসে পড়ে, তাকে ওর পছন্দ নয় কেন? বলে,তার কালচার নেই। কেন ভাই, সে তো এম. এ.-তে বটানিতে ফার্স্ট্। বিদ্যেকেই তো বলে কালচার।"
অমিত বলে, "কমল-হীরের পাথরটাকেই বলে বিদ্যে, আর ওর থেকে যে আলো ঠিকরে পড়ে তাকেই বলে কালচার। পাথরের ভার আছে, আলোর আছে দীপ্তি।"
লিসি রেগে উঠে বলে, "ইস, বিমি বোসের আদর নেই ওঁর কাছে! উনি নিজেই নাকি তার যোগ্য! অমি যদি বিমি বোসকে বিয়ে করতে পাগল হয়েও ওঠে আমি তাকে সাবধান করে দেব, সে যেন ওর দিকে ফিরেও না তাকায়।"
অমিত বললে, "পাগল না হলে বিমি বোসকে বিয়ে করতে চাইবই বা কেন? সে সময়ে আমার বিয়ের কথা না ভেবে উপযুক্ত চিকিৎসার কথা ভেবো।"
আত্মীয়স্বজন অমিতর বিয়ের আশা ছেড়েই দিয়েছে। তারা ঠিক করেছে, বিয়ের দায়িত্ব নেবার যোগ্যতা ওর নেই, তাই ও কেবল অসম্ভবের স্বপ্ন দেখে আর উলটো কথা বলে মানুষকে চমক লাগিয়ে বেড়ায়। ওর মনটা আলেয়ার আলো, মাঠে বাটে ধাঁধা লাগাতেই আছে, ঘরের মধ্যে তাকে ধরে আনবার জো নেই।
ইতিমধ্যে অমিত যেখানে-সেখানে হো হো করে বেড়াচ্ছে-- ফিরপোর দোকানে যাকে-তাকে চা খাওয়াচ্ছে, যখন-তখন মোটরে চড়িয়ে বন্ধুদের অনাবশ্যক ঘুরিয়ে নিয়ে আসছে; এখান-ওখান থেকে যা-তা কিনছে আর একে-ওকে বিলিয়ে দিচ্ছে, ইংরেজি বই সদ্য কিনে এ-বাড়িতে ও-বাড়িতে ফেলে আসছে, আর ফিরিয়ে আনছে না।
ওর বোনেরা ওর যে অভ্যাসটা নিয়ে ভারি বিরক্ত সে হচ্ছে ওর উলটো কথা বলা। সজ্জনসভায় যা-কিছু সর্বজনের অনুমোদিত ও তার বিপরীত কিছু-একটা বলে বসবেই।
একদা কোন্-একজন রাষ্ট্রতাত্ত্বিক ডিমোক্রাসির গুণ বর্ণনা করছিল; ও বলে উঠল, "বিষ্ণু যখন সতীর মৃতদেহ খণ্ড খণ্ড করলেন তখন দেশ জুড়ে যেখানে-সেখানে তাঁর একশোর অধিক পীঠস্থান তৈরি হয়ে গেল। ডিমোক্রাসি আজ যেখানে-সেখানে যত টুকরো অ্যারিস্টক্রেসির পুজো বসিয়েছে; খুদে খুদে অ্যারিস্টক্রাটে পৃথিবী ছেয়ে গেল-- কেউ পলিটিক্সে, কেউ সাহিত্যে, কেউ সমাজে। তাদের কারো গাম্ভীর্য নেই, কেননা তাদের নিজের 'পরে বিশ্বাস নেই।"
একদা মেয়েদের 'পরে পুরুষের আধিপত্যের অত্যাচার নিয়ে কোনো সমাজহিতৈষী অবলাবান্ধব নিন্দা করছিল পুরুষদের। অমিত মুখ থেকে সিগারেট নামিয়ে ফস করে বললে, "পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে। দুর্বলের আধিপত্য অতি ভয়ংকর।"
সভাস্থ অবলা ও অবলাবান্ধবেরা চটে উঠে বললে, "মানে কী হল।"
অমিত বললে, "যে পক্ষের দখলে শিকল আছে সে শিকল দিয়েই পাখিকে বাঁধে, অর্থাৎ জোর দিয়ে। শিকল নেই যার সে বাঁধে আফিম খাইয়ে, অর্থাৎ মায়া দিয়ে। শিকলওয়ালা বাঁধে বটে, কিন্তু ভোলায় না; আফিমওয়ালী বাঁধেও বটে, ভোলায়ও। মেয়েদের কৌটো আফিমে ভরা, প্রকৃতি-শয়তানী তার জোগান দেয়।"
একদিন ওদের বালিগঞ্জের এক সাহিত্যসভায় রবি ঠাকুরের কবিতা ছিল আলোচনার বিষয়। অমিতর জীবনে এই সে প্রথম সভাপতি হতে রাজি হয়েছিল; গিয়েছিল মনে মনে যুদ্ধসাজ প'রে। একজন সেকেলেগোছের অতি ভালোমানুষ ছিল বক্তা। রবি ঠাকুরের কবিতা যে কবিতাই এইটে প্রমাণ করাই তার উদ্দেশ্য। দুই-একজন কলেজের অধ্যাপক ছাড়া অধিকাংশ সভ্যই স্বীকার করলে, প্রমাণটা একরকম সন্তোষজনক।
সভাপতি উঠে বললে, "কবিমাত্রের উচিত পাঁচ-বছর মেয়াদে কবিত্ব করা, পঁচিশ থেকে ত্রিশ পর্যন্ত। এ কথা বলব না যে, পরবর্তীদের কাছ থেকে আরো ভালো কিছু চাই, বলব অন্য কিছু চাই। ফজলি আম ফুরোলে বলব না, "আনো ফজলিতর আম।' বলব, "নতুন বাজার থেকে বড়ো দেখে আতা নিয়ে এসো তো হে।' ডাব-নারকেলের মেয়াদ অল্প, সে রসের মেয়াদ; ঝুনো নারকেলের মেয়াদ বেশি, সে শাঁসের মেয়াদ। কবিরা হল ক্ষণজীবী, ফিলজফরের বয়সের গাছপাথর নেই।... রবি ঠাকুরের বিরুদ্ধে সব চেয়ে বড়ো নালিশ এই যে, বুড়ো ওঅর্ড্স্ওঅর্থের নকল করে ভদ্রলোক অতি অন্যায়রকম বেঁচে আছে। যম বাতি নিবিয়ে দেবার জন্যে থেকে থেকে ফরাশ পাঠায়, তবু লোকটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েও চৌকির হাতা আঁকড়িয়ে থাকে। ও যদি মানে মানে নিজেই সরে না পড়ে, আমাদের কর্তব্য ওর সভা ছেড়ে দল বেঁধে উঠে আসা। পরবর্তী যিনি আসবেন তিনিও তাল ঠুকেই গর্জাতে গর্জাতে আসবেন যে, তাঁর রাজত্বের অবসান নেই। অমরাবতী বাঁধা থাকবে মর্তে তাঁরই দরজায়। কিছুকাল ভক্তরা দেবে মাল্যচন্দন, খাওয়াবে পেট ভরিয়ে, সাষ্টাঙ্গে প্রণিপাত করবে, তার পরে আসবে তাঁকে বলি দেবার পুণ্য দিন-- ভক্তিবন্ধন থেকে ভক্তদের পরিত্রাণের শুভ লগ্ন। আফ্রিকায় চতুষ্পদ দেবতার পুজোর প্রণালী এইরকমই। দ্বিপদী ত্রিপদী চতুষ্পদী চতুর্দশপদী দেবতাদের পুজোও এই নিয়মে। পূজা জিনিসটাকে একঘেয়ে করে তোলার মতো অপবিত্র অধার্মিকতা আর কিছু হতে পারে না।... ভালো লাগার এভোল্যুশন আছে। পাঁচ বছর পূর্বেকার ভালো-লাগা পাঁচ বছর পরেও যদি একই জায়গায় খাড়া দাঁড়িয়ে থাকে তা হলে বুঝতে হবে, বেচারা জানতে পারে নি যে, সে মরে গেছে। একটু ঠেলা মারলেই তার নিজের কাছে প্রমাণ হবে যে, সেণ্টিমেণ্টাল আত্মীয়েরা তার অন্ত্যেষ্টি-সৎকার করতে বিলম্ব করেছিল, বোধ করি উপযুক্ত উত্তরাধিকারীকে চিরকাল ফাঁকি দেবার মতলবে। রবি ঠাকুরের দলের এই অবৈধ ষড়যন্ত্র আমি পাব্লিকের কাছে প্রকাশ করব বলে প্রতিজ্ঞা করেছি।"
আমাদের মণিভূষণ চশমার ঝলক লাগিয়ে প্রশ্ন করলে, "সাহিত্য থেকে লয়ালটি উঠিয়ে দিতে চান?"
"একেবারেই। এখন থেকে কবি-প্রেসিডেণ্টের দ্রুতনিঃশেষিত যুগ। রবি ঠাকুর সম্বন্ধে আমার দ্বিতীয় বক্তব্য এই যে, তাঁর রচনারেখা তাঁরই হাতের অক্ষরের মতো-- গোল বা তরঙ্গরেখা, গোলাপ বা নারীর মুখ বা চাঁদের ধরনে। ওটা প্রিমিটিভ; প্রকৃতির হাতের অক্ষরের মক্শো-করা। নতুন প্রেসিডেণ্টের কাছে চাই কড়া লাইনের, খাড়া লাইনের রচনা-- তীরের মতো, বর্শার ফলার মতো, কাঁটার মতো। ফুলের মতো নয়, বিদ্যুতের রেখার মতো। ন্যুর৻ালজিয়ার ব্যথার মতো। খোঁচাওয়ালা কোণওয়ালা গথিক গির্জের ছাঁদে, মন্দিরের মণ্ডপের ছাঁদে নয়। এমন-কি, যদি চটকল পাটকল অথবা সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিঙের আদলে হয়, ক্ষতি নেই।... এখন থেকে ফেলে দাও মন-ভোলাবার ছলাকলা ছন্দোবন্ধ, মন কেড়ে নিতে হবে, যেমন করে রাবণ সীতাকে কেড়ে নিয়ে গিয়েছিল। মন যদি কাঁদতে কাঁদতে আপত্তি করতে করতে যায় তবুও তাকে যেতেই হবে-- অতিবৃদ্ধ জটায়ুটা বারণ করতে আসবে, তাই করতে গিয়েই তার হবে মরণ। তার পরে কিছুদিন যেতেই কিষ্কিন্ধ্যা জেগে উঠবে, কোন্ হনুমান হঠাৎ লাফিয়ে পড়ে লঙ্কায় আগুন লাগিয়ে মনটাকে পূর্বস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে আসবার ব্যবস্থা করবে। তখন আবার হবে টেনিসনের সঙ্গে পুনর্মিলন, বায়রণের গলা জড়িয়ে করব অশ্রুবর্ষণ; ডিকেন্স্কে বলব, মাপ করো, মোহ থেকে আরোগ্যলাভের জন্যে তোমাকে গাল দিয়েছি।... মোগল বাদশাদের কাল থেকে আজ পর্যন্ত দেশের যত মুগ্ধ মিস্ত্রি মিলে যদি যেখানে-সেখানে ভারত জুড়ে কেবলই গম্বুজওয়ালা পাথরের বুদ্বুদ্ বানিয়ে চলত তা হলে ভদ্রলোক মাত্রই যেদিন বিশ বছর বয়স পেরোত সেইদিনই বানপ্রস্থ নিতে দেরি করত না। তাজমহলকে ভালো-লাগাবার জন্যেই তাজমহলের নেশা ছুটিয়ে দেওয়া দরকার।"
(এইখানে বলে রাখা দরকার,কথার তোড় সামলাতে না পেরে সভার রিপোর্টারের মাথা ঘুরে গিয়েছিল, সে যা রিপোর্ট লিখেছিল সেটা অমিতর বক্তৃতার চেয়েও অবোধ্য হয়ে উঠেছিল। তারই থেকে যে-কটা টুকরো উদ্ধার করতে পারলুম তাই আমরা উপরে সাজিয়ে দিয়েছি।)
তাজমহলের পুনরাবৃত্তির প্রসঙ্গে রবি ঠাকুরের ভক্ত আরক্তমুখে বলে উঠল, "ভালো জিনিস যত বেশি হয় ততই ভালো।"
অমিত বললে, "ঠিক তার উলটো। বিধাতার রাজ্যে ভালো জিনিস অল্প হয় বলেই তা ভালো, নইলে সে নিজেরই ভিড়ের ঠেলায় হয়ে যেত মাঝারি।... যে-সব কবি ষাট-সত্তর পর্যন্ত বাঁচতে একটুও লজ্জা করে না তারা নিজেকে শাস্তি দেয় নিজেকে সস্তা করে দিয়ে। শেষকালটায় অনুকরণের দল চারি দিকে ব্যূহ বেঁধে তাদেরকে মুখ ভ্যাংচাতে থাকে। তাদের লেখার চরিত্র বিগড়ে যায়, পূর্বের লেখা থেকে চুরি শুরু করে হয়ে পড়ে পূর্বের লেখার রিসীভস্ অফ স্টোল্ন্ প্রপার্টি। সে স্থলে লোকহিতের খাতিরে পাঠকদের কর্তব্য হচ্ছে কিছুতেই এই-সব অতিপ্রবীণ কবিদের বাঁচতে না দেওয়া-- শারীরিক বাঁচার কথা বলছি নে, কাব্যিক বাঁচা। এদের পরমায়ু নিয়ে বেঁচে থাক্ প্রবীণ অধ্যাপক, প্রবীণ পোলিটিশন, প্রবীণ সমালোচক।"
সেদিনকার বক্তা বলে উঠল, "জানতে পারি কি, কাকে আপনি প্রেসিডেণ্ট করতে চান? তার নাম করুন।"
অমিত ফস্ করে বললে, "নিবারণ চক্রবর্তী।"
সভার নানা চৌকি থেকে বিস্মিত রব উঠল-- "নিবারণ চক্রবর্তী? সে লোকটা কে।"
"আজকের দিনে এই-যে প্রশ্নের অঙ্কুর মাত্র, আগামী দিনে এর থেকে উত্তরের বনস্পতি জেগে উঠবে।"
"ইতিমধ্যে আমরা একটা নমুনা চাই।"
"তবে শুনুন।" বলে পকেট থেকে একটা সরু লম্বা ক্যাম্বিসে-বাঁধা খাতা বের করে তার থেকে পড়ে গেল--
আনিলাম
অপরিচিতের নাম
ধরণীতে,
পরিচিত জনতার সরণীতে।
আমি আগন্তুক,
আমি জনগণেশের প্রচণ্ড কৌতুক।
খোলো দ্বার,
বার্তা আনিয়াছি বিধাতার।
মহাকালেশ্বর
পাঠায়েছে দুর্লক্ষ্য অক্ষর,
বল্ দুঃসাহসী কে কে
মৃত্যু পণ রেখে
দিবি তার দুরূহ উত্তর।
শুনিবে না।
মূঢ়তার সেনা
করে পথরোধ।
ব্যর্থ ক্রোধ
হুংকারিয়া পড়ে বুকে,
তরঙ্গের নিষ্ফলতা
নিত্য যথা
মরে মাথা ঠুকে
শৈলতট-'পরে
আত্মঘাতী দম্ভভরে।
পুষ্পমাল্য নাহি মোর, রিক্ত বক্ষতল,
নাহি বর্ম অঙ্গদ কুণ্ডল।
শূন্য এ ললাটপট্টে লিখা।
গূঢ় জয়টিকা।
ছিন্ন কন্থা দরিদ্রের বেশ।
করিব নিঃশেষ
তোমার ভাণ্ডার।
খোলো খোলো দ্বার।
অকস্মাৎ
বাড়ায়েছি হাত,
যা দিবার দাও অচিরাৎ।
বক্ষ তব কেঁপে উঠে, কম্পিত অর্গল,
পৃথ্বী টলমল।
ভয়ে আর্ত উঠিছে চীৎকারি
দিগন্ত বিদারি,
"ফিরে যা এখনি,
রে দুর্দান্ত দুরন্ত ভিখারি,
তোর কণ্ঠধ্বনি
ঘুরি ঘুরি
নিশীথনিদ্রার বক্ষে হানে তীব্র ছুরি।"
অস্ত্র আনো।
ঝঞ্ঝনিয়া আমার পঞ্জরে হানো।
মৃত্যুরে মারুক মৃত্যু, অক্ষয় এ প্রাণ
করি যাব দান।
শৃঙ্খল জড়াও তবে,
বাঁধো মোরে, খণ্ড খণ্ড হবে,
মুহূর্তে চকিতে,
মুক্তি তব আমারি মুক্তিতে।
শাস্ত্র আনো।
হানো মোরে, হানো।
পণ্ডিতে পণ্ডিতে
ঊর্ধ্বস্বরে চাহিব খণ্ডিতে
দিব্য বাণী।
জানি জানি
তর্কবাণ
হয়ে যাবে খান খান।
মুক্ত হবে জীর্ণ বাক্যে আচ্ছন্ন দু চোখ--
হেরিবে আলোক।
অগ্নি জ্বালো।
আজিকার যাহা ভালো
কল্য যদি হয় তাহা কালো,
যদি তাহা ভস্ম হয়
বিশ্বময়,
ভস্ম হোক।
দূর করো শোক।
মোর অগ্নিপরীক্ষায়
ধন্য হোক বিশ্বলোক অপূর্ব দীক্ষায়।
আমার দুর্বোধ বাণী
বিরুদ্ধ বুদ্ধির 'পরে মুষ্টি হানি
করিবে তাহারে উচ্চকিত,
আতঙ্কিত।
উন্মাদ আমার ছন্দ
দিবে ধন্দ
শান্তিলুব্ধ মুমুক্ষুরে,
ভিক্ষাজীর্ণ বুভুক্ষুরে।
শিরে হস্ত হেনে
একে একে নিবে মেনে
ক্রোধে ক্ষোভে ভয়ে
লোকালয়ে
অপরিচিতের জয়,
অপরিচিতের পরিচয়--
যে অপরিচিত
বৈশাখের রুদ্র ঝড়ে বসুন্ধরা করে আন্দোলিত,
হানি বজ্রমুঠি
মেঘের কার্পণ্য টুটি
সংগোপন বর্ষণসঞ্চয়
ছিন্ন ক'রে মুক্ত করে সর্বজগন্ময়॥
রবি ঠাকুরের দল সেদিন চুপ করে গেল। শাসিয়ে গেল, লিখে জবাব দেবে।
সভাটাকে হতবুদ্ধি করে দিয়ে মোটরে করে অমিত যখন বাড়ি আসছিল, সিসি তাকে বললে, "একখানা আস্ত নিবারণ চক্রবর্তী তুমি নিশ্চয় আগে থাকতে গড়ে তুলে পকেটে করে নিয়ে এসেছ, কেবলমাত্র ভালোমানুষকে বোকা বানাবার জন্যে।"
অমিত বললে, "অনাগতকে যে মানুষ এগিয়ে নিয়ে আসে তাকেই বলে অনাগত-বিধাতা। আমি তাই। নিবারণ চক্রবর্তী আজ মর্তে এসে পড়ল, কেউ তাকে আর ঠেকাতে পারবে না।"
সিসি অমিতকে নিয়ে মনে মনে খুব একটা গর্ব বোধ করে। সে বললে, "আচ্ছা অমিত, তুমি কি সকালবেলা উঠেই সেদিনকার মতো তোমার যত শানিয়ে-বলা কথা বানিয়ে রেখে দাও?"
অমিত বললে, "সম্ভবপরের জন্যে সব সময়েই প্রস্তুত থাকাই সভ্যতা; বর্বরতা পৃথিবীতে সকল বিষয়েই অপ্রস্তুত। এ কথাটাও আমার নোট-বইয়ে লেখা আছে।"
"কিন্তু তোমার নিজের মত বলে কোনো পদার্থই নেই; যখন যেটা বেশ ভালো শোনায় সেইটেই তুমি বলে বস।"
"আমার মনটা আয়না, নিজের বাঁধা মতগুলো দিয়েই চিরদিনের মতো যদি তাকে আগাগোড়া লেপে রেখে দিতুম তা হলে তার উপরে প্রত্যেক চলতি মুহূর্তের প্রতিবিম্ব পড়ত না।"
সিসি বললে, "অমি, প্রতিবিম্ব নিয়েই তোমার জীবন কাটবে।"
ব্যালাব্রুয়ি, ব্যাঙ্গালোর, ২৫ জুন ১৯২৮
Subscribe to:
Posts (Atom)











